অফিসের কাজে চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম দুদিনের জন্য। কাল সকাল দশটার মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ অফিসের এক বড় ভাইয়ের একটা কাজ ছিল ডিবি অফিসে সেখানে উনার কাজ শেষ হওয়ার পর উনি বললেন কোথায় যাবেন আপনারা চলুন আমার সাথে, আমি আপনাদের ঘুরাবো।
বললাম কর্ণফুলী টানেলটা দেখার খুব ইচ্ছা, সময় থাকলে চলেন। এত টাকা খরচ করে আপায় দেশ ও জাতির স্বার্থে এটি নির্মাণ করল যদি না দেখি তাহলে তো আপার সাথে বেয়াদবি করা হয়।
যেই কথা সেই কাজ, উনি নিজে ড্রাইভ করে প্রাইভেটকার নিয়ে ছুটে চললেন সাগরিকার এম আজিজ স্টোডিয়ামের পাশ ঘেঁষে কর্ণফুলী নদীর বেড়ি বাঁধ হয়ে।। ডান পাশে দেখলাম শত শত জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে কিংবা এলোমেলো ভাবে নোঙ্গর করে আছে। বললাম এগুলা তীরে না নোঙ্গর মাঝ সমুদ্রে কেন?
তিনি বললেন এ জাহাজ গুলা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সবগুলাতে মাল আছে কিন্তু এগুলা খালাস করতেছে না তারা দাম বাড়াবে বলে। বিশেষ করে রমজানে খেজুর চিনি আটা ময়দা সুজি দুগ্ধজাত পণ্য কিংবা আমদানি করা মসলা ও ফলের যখন বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে তখন এরা এখান থেকে এগুলা দেশের বিভিন্ন বন্দরে পাঠাবে চড়া দামে বিক্রি করার জন্য ।
বললাম তাহলে সরকার কি করছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কেন ? উনি জবাব দিলেন সরকার এই সিন্ডিকেট কখনো ভাঙতে পারবেনা একমাত্র সেনাবাহিনী যদি না করে! আপনি নিউজে পড়ছেন না বিদেশি কোম্পানিকে হ্যান্ডেলিং এর দায়িত্ব দেওয়ায় কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছে!
বললাম আপনার মতামত কি আসলেই কি সরকার এই চুক্তি করে ঠিক করেছে না ঠিক করেনি? তিনি বললেন দেশের অনেক টাকা সাশ্রয় হবে সময়ও বাঁচবে দেশের অর্থনীতিরও উন্নতি হবে! কিন্তু এখানে যে সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন আছে কিংবা কর্মচারী আছে এবং বেসরকারিভাবে চাকরি করে তাদেরতো ক্ষতি হবে এটাতো স্বাভাবিক ব্যাপার!
এরই মাঝে আমরা পৌঁছে গেলাম বীচের পাশে কর্ণফুলী টানেলের সামনে।
(চলবে )

0 মন্তব্যসমূহ