বৃটিশদের ঘৃনা করি কিন্ত বৃটিশ আইনকে শ্রদ্ধা করি।


 আমরা বৃটিশদের ঘৃণা করি -অথচ ভালোবাসি বৃটিশদের তৈরি করা আইনকে। কিন্তু এসব আইন পরিবর্তন প্রয়োজন কিনা , এগুলা আমাদের সামাজিক মুল্যবোধ নষ্ট করে কিনা তা কখনও ভেবে দেখিনা। 

থানা হাজত কিংবা জেলখানাতে কি অমানবিক আচরণ বন্দীদের সাথে করা হয় তা বাহির থেকে বুঝার কথানা। কিন্তু বেশির ভাগ নেতারাই-তো জেলে যান তখন তাদের কি মনে হয়না -এখানকার নিয়ম কানুন পরিবর্তন দরকার ?

বস্তুত একদল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন অন্যদলকে কারাগারে পাঠানোর যাবতীয় কালাকানুন খুঁজে বের করে।কখনও নিজেরা পিটায় কখনওবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে শায়েস্তা করে। যখনই কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করে তখনই অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন  হামলা মামলা দিয়ে  কারাবরণ  ঘুম গুপ্ত হত্যা আয়না-ঘরের মত ঘৃণিত বন্দীশালা সৃষ্টি করে। 

আবার সে দলের নেতারা জেল থেকে বের হয়ে ভাবে শুধু কারাগার কেন পুরো পৃথিবীটাকেই পরিবর্তন করে ফেলবে -কিন্ত কদিন পরে ক্ষমতার মোহে আর টাকার গন্ধে সব ভুলে যায়। একদিন নেতা কর্মীদের কথাও ভুলে যায়। যাদের হাত ধরে ক্ষমতায় আসেন তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।এর কারণ  হলো শিক্ষার অভাব জ্ঞানের অভাব -মুল্যবোধের অভাব ।

নইলে -

১. কেন একজন হাজতিকে প্যারোলে মুক্তি দিতে বাধা থাকে। 

২.  কেন একজন কয়েদী কিংবা হাজতি হ্যান্ড-কাপ হাতে চিকিৎসা নিতে হয়।

৩. কেন একজন হাজতিকে বাবা মায়ের জানাযা পড়ার সময় হাতে হ্যান্ড-কাপ লাগিয়ে রাখতে হয়। 

৪.কেন কয়েদীদের রুমে ফ্যান থাকবে না। 

৫.কেন দুজনের রুমে ২০ জনকে থাকতে হবে -আবার টাকা দিলে একজন এক রুমে থাকতে পারে?

৬. কেন ২০/৩০ জনের জন্য একটি মাত্র বাথরুম থাকবে।

৭.কেন কোন আসামীর জামিন হলেও সেটা জেলে যেতে তিনদিন লাগবে? 

৮.কেন বিনা অপরাধে বছরের পর বছর ধরে কারাগারে থাকবে ?

৯. কেন কারো মামলার মাসে মাসে শুনানি হয় আবার কারো মামলা ০৬ মাসেও একবার হয়না। 

১০.কেন একজন হাজতি তার মৃত স্ত্রী কিংবা সন্তানের লাশ দেখতে হবে -হাজতে বসে -এ গুলো কে তদারকি করে -কে অর্ডার জারি করে -কার দায়িত্বে এসব পরিচালিত হয় এসব প্রশ্নের জবাব আছে কোন ?

উত্তর হচ্ছে আমারা আইনের বাইরে যেতে পারিনা -তোকে এমন আইন করতে বলছে কে যে আইন -মানবিকতা মুল্যবোধ এবং বিবেককে হার মানায় ?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ