সকালে চ্যানেল ২৪ এর একটা নিউজ দেখলাম ০৫ই মে ২০১৩ এর হত্যাকাণ্ড নিয়ে। যেসব ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে সাপলা চত্বর নিয়ে সম্ভবত এ ভিডিও এর আগে কেউ এগুলো প্রকাশ করেনি। কারণ লাইভ অনুষ্ঠান প্রচারের অপরাধেই -এ দিনে বন্ধ হয়ে যায় দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি।
কি ভীবতসো কি ভয়ানক কি নারকীয় , গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবার মত। একটা মানুষ মরে যাবার পরও তাকে পেটাচ্ছে পুলিশ আর্মী Rab। এটা কোন মানুষের কাজ হতে পারেনা। জানোয়ারদেরও হার মানিয়েছে এসব দৃশ্য। আহত বা কাতরাচ্ছে এমন লোকের মুখে বুকে বুট দিয়ে লাথি মারছে -রক্ষীবাহিনী।
প্রাণ ভয়ে যখন হেফাজতের নেতা কর্মীরা পালাচ্ছে তখন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছে -আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।মনে হচ্ছে রুয়ান্ডার বিদ্রোহী কিংবা সুদানের মিলিশিয়াদের প্রতি গুলি ছুড়ছে সেনাবাহিনী।
আহা- মানুষের জীবন। রাষ্ট্রীয় মদদে এভাবে নৃশংসতা চালিয়েছে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ?
মূলত এ ঘটনার পর থেকেই সরকার বিরোধীদের হত্যাযজ্ঞের মিশন শুরু হয় এবং এ মিশনে যারা অংশ গ্রহণ করেছিল তাদের বিভিন্নভাবে পদায়ন বা পুরস্কৃত করা হয়।যেহেতু এ ঘটনা মিডিয়াতে আসেনি এবং অতি গোপনে লাস গুলো ঘুম করে ফেলা হয় যার কারণে সরকারী প্রেসনোটটাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় -চ্যানেল গুলো। বিপরীতে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসও পায়নি বিরোধী দল।
বেগম খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলেও দলের পক্ষ থেকে জোরালে কোন ভূমিকা নেয়া হয়নি। পরিণামে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হয় এবং বিএনপির সুবিধাবাদীরা সংসদে দাঁড়িয়ে এখন গর্ব করে বলতে পারে -আমিতো হাসিনার জেলে যায়নি নেত্রীকে পাঠিয়ে আমি বীরের মত পালিয়ে গিয়েছিলাম এখন দেশে ফিরেই এমপি এবং মন্ত্রী -বাহ নেতা বাহ।
মূলত ০৫ মে২০১৩ এর ধারাবাহিক নৃশংসতার ফসল ০৫ই আগস্ট।সরকার মনে করেছিল যেভাবে হেফাজতে সমাবেশে গণহত্যা চালিয়ে ধামা চাপা দেয়া গেছে সেভাবেই ০৫ই আগস্টও দেয়া যাবে কিন্তু হেফাজতের ঘটনা ঘটেছে রাতের আঁধারে আর জুলাই আগস্টের বেশির ভাগ ঘটনা দিনের আলোতে।। হেফাজতের সমাবেশে মতিঝিল এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। সমস্ত সাংবাদিক এবং চ্যানেলকে বের করে দিয়ে যাতে কোন প্রমাণ না থাকে। আর জুলাই আগস্টে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ক্যামরা এবং চ্যানেলের ফুটেজে।
প্রশ্ন হচ্ছে এতদিন পর্যন্ত এসব নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পাদপ্রদীপের আলেতো আসেনি কেন ।এখন কেন আসছে- উত্তরটা খুব সহজ।
সরকার পরিবর্তন না হলে এ গুলা বিশ্বাস বিশ্বাসই করতো না কেউ । বিচারতো অনেক দুরের বিষয়।
বিএনপিকে ধন্যবাদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি-নুযায়ী বিষয়টি তদন্ত এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধ আইনের আওতায় বিচার শুরু করার জন্য।

0 মন্তব্যসমূহ