কর্ণফুলী টানেল একটি ব্যয় বহুল নির্মান।

 


কর্ণফুলী টানেল ২য় পর্ব :-

পতেঙ্গা বীচে ক্ষণিক বিরতি নিয়ে আমরা রওয়ানা হলাম টানেলের দিকে।সময় তখন দুপুর ১২টার উপরে। বীচের আশে পাশে কয়েকজন পুলিশ বসে । কয়েকটা দোকান মাত্র  খুলেছে কারণ এখানকার বেশির ভাগ দোকান চালু হয় বিকালে।

তিনটি রাস্তা এসে মিশেছে -টানেলের সামনে। বলা যায় এটি একটি সংযোগস্থল। একটি রাস্তা এসেছে একে খান কিংবা অলংকারের মোড় থেকে। আরেকটি বদ্দার হাট থেকে এক্সপ্রেস হয়ে প্রায় ৩০/৪০ কিঃ লম্বা। এটা মনে হয় বাংলাদেশের সর্বোচ্ছ এক্সপ্রেস ওয়ে। আরেকটি এসেছে কাস্টমস বা বন্দর থেকে। 

যাইহোক টানেলের এ পাড়ে  আছে পতেঙ্গা বীচ অন্য পাড়ে -আনোয়ারা। বর্তমানে শহরে না ঢুকে কক্সবাজার যাবার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পটিয়া হয়ে দোহাজারির দিকে হাইওয়ে হলে কক্সবাজারের দূরত্ব কমে আসবে ০১ ঘণ্টা। এ পরিকল্পনা থেকেই হয়তো টানেলটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এর নির্মাণ ব্যয় ১০৭০০ কোটি টাকা। দৈনিক রক্ষনা বেক্ষন ধরা হয়েছে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আয় হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। ভবিষ্যতে হয়তো ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটির সুফল পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে এটাকে একেবারে নিরর্থক প্রকল্প হিসাবে চিহ্নিত করা যায়না। কিন্ত নির্মান ব্যয় কেন এত বেশি হলো সেটা কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।  তবে টোল কিছুটা কমিয়ে দিলে হয়তো অনেকে ব্যবহারে উৎসাহ পাবে। কারণ প্রাইভেটের টোল ২০০ মাইক্রো বাসের ২৫০ এবং বাসের ক্ষেত্রে ৩০০ এবং ট্রাকের ক্ষেত্রে ৪০০  টাকা। 

এজন্য কক্সবাজার-গামী বাস গুলো এ পথে কম যায়। তবে পণ্যবাহী ট্রাক গুলোর জন্য এটি অন্যতম মাধ্যম।বিশেষ করে শহরের জ্যাম এড়িয়ে টানেল হয়ে কক্সবাজার যাবার  গেলে প্রায় ৩০ মিনিটের মত সময় বাঁচানো যাবে।পথও কমে ১০/১৫ কিলোমিটারের মত।

আমরা ২০০ টাকা টোল দিয়ে চলে গেলাম ওপাড়ে। পথে একটি মাত্র ট্রাক দেখলাম আমাদের সাথে ।আর বিপরীত দিকে থেকে দেখলাম একটি বাসই অতিক্রম করেছে। সময় লেগেছে ২/৩ মিনিট কারণ মুল টানেল ৩.৫ কিঃমিঃ।ওপারে তেমন কিছুই নেই। তবে ভবিষ্যতে হয়তো আরো হোটেল মোটেল গড়ে উঠবে। 

আসার সময় আমরা আর এ পথে না এসে পটিয়া হয়ে কর্ণফুলী ব্রিজ দিয়ে বদ্দার হাট হয়ে শহরে প্রবেশ করলাম।শহরের এ মাথা থেকে এ মাথা পর্যন্ত -এক্সপ্রেস ওয়ে এবং ওভারব্রিজ। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ