ইরানের ১০ শর্তের যুদ্ধ বিরতি ! আমেরিকার একটা কৌশল ! ইসরাইলের কারনে যে কোন সময় এটা ভেঙ্গে যেতে পারে।

 



গত রাত ১০ টা পর্যন্ত খবর দেখে হতাশ হয়েই টিভির চ্যানেল ঘুরালাম। ইরানে ভয়ঙ্কর আক্রমণ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- কি হবে বিশ্বে কি হবে আমাদের দেশে। এ ভাবনা নিয়েই রাতে ঘুমাতে গেলাম।
ওমা সকালে অফিসে এসেই দেখি আনন্দের বন্যা আকাশে বাতাসে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতীতে সম্মত হয়েছে ট্রাম্প।তার সাথে ট্রাম্প বলেছে এটা নাকি যুক্তরাষ্ট্রেরই বিজয় এবং ইরানের পরাজয়।
এখন প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই বাধ্য হয়ে যুদ্ধ বিরতিতে গিয়েছে নাকি এটাও তাদের কৌশল ? কারন ক্ষেপাটে আলাদিন কখন কি বলে সে নিজেও জানেনা। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়না এ বিরতি কার্যকর হবে -কারণ সব গুলো প্রস্তাবই ইরানের পক্ষে এবং ইসরাইল বলছে -এর সাথে লেবানন সম্পৃক্ত নয়। সুতরাং মন্ত্যব করার আগে দেখতে হবে যুদ্ধবিরতির শর্তে কি বলা আছে।
• ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে হবে।
• ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষদের’ সব অংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
• এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও মোতায়েন স্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
• হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নিরাপদ চলাচল প্রোটোকল’ স্থাপন করতে হবে।
• ইরানকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
• সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, পাশাপাশি বোর্ড অব গভর্নর ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো বাতিল করতে হবে।
• বিদেশে থাকা ইরানের সব অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
ইরানের এসব দাবির কোনটি যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এই ১০ দফা প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৫ দফা প্রস্তাব—উভয়ই আলোচনার ‘ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করবে।
তবে ইসরাইল যদি আবারও ফিলিস্তিন কিংবা লেবাননে হামলা চালায় ,তাহলে এ বিরতি ইরান ভাঙ্গতে পারে যেকোন দিন যে কোন সময়ে। কারণ কৌশলগত ভাবে যুদ্ধে ইরান এগিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে। ইরানের একা যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো এবং ইসরাইলের।সুতরাং আমাদের এত টেনশান নেবার দরকার নেই। শান্তির পথেইতো আমাদের কাম্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ