আপার আমলে শুধু উন্নয়ন ছিল কিন্ত এত চাঁদাবাজি আর ধর্ষণ ছিলনা

 


এক বিভীষিকাময় অধ্যায় থেকে জুলাই আমাদের মুক্ত করেছে । তবুও আমরা ডিসেম্বরের প্রতীক্ষায় থাকি। একবারও ভাবিনা - যারা জুলাই আন্দোলন সহ গত ১৫ বছরে যে সমস্ত মানুষ দুঃশ্বাসন অপশাসন আর নির্যাতনের শিকার হয়ে সর্বস্ত হারিয়েছেন এ সমস্ত অসহায় নির্যাতিত ফ্যামিলি গুলোর দিন কিভাবে যায় ?

মানুষ এখনও  বলে বেড়ায় আপার আমলে বহু উন্নয়ন হইছে।আসলে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু উন্নয়নের পিছনে যে দুঃশাসন নিপীড়ন আর নির্যাতনের ইতিহাস রেখে গেছে তা আমরা হয়তো ভুলে যাব একদিন।

যদিও বিএনপির একাধিক গান্ডু বলে তিনমাসে নাকি ১৫ বছরের উন্নয়ন হইছে। এ গুলা বিশ্বাস করারও লোক আছে। কারণ যে দেশে এক প্যাকেট বিরানির জন্য  মানুষ সারাদিন মিছিল করতে পারে। ব্রাজিল আর্জেন্টিনার জন্য জীবন বাজি রাখতে পারে , ৫০০ বা ১০০০ টাকার মানুষ খুন করতে পারে সে দেশে এ গুলো বললে প্রতিবাদ না করে তালি দেবার লোকের অভাব হবার কথা না । 

আপার আমলে দেশে সব দিকেই উন্নয়ন হয়েছে। ১৫ বছরে যা  গুম এবং ক্রস ফায়ার হয়েছে , বিচার ব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করে যুদ্ধ অপরাধী এবং জঙ্গি নাটক সাজিয়ে যত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার রেকর্ডও আর কারো স্পর্শ করা সম্ভব না। 

উন্নয়ন করতে গিয়ে যে পরিমাণ দুর্নীতি, লুট এবং সুইস ব্যাংকে টাকা জমা হয়েছে দেশীয় ব্যাংক দেউলিয়া হয়েছে তা হয়তো এখন আর কারো পক্ষে সম্ভব না। কারণ মুজিব শত বর্ষ পালন করতে গিয়েই রাষ্ট্রর ব্যয় হয়েছে হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেল ,এলিভেটর এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু-এক্সপ্রেস ওয়ে তৈরিতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে দেড়গুন। হয়তো এ গুলা আপা জানতেন না কিন্ত করেছেতো আপার কাছের মানুষরাই। 

এক দলীয় নির্বাচন বা ভোট বিহীন নির্বাচন যেভাবে হয়েছে তা ইতিহাসে বিরল। যার জন্য দুজন প্রধান নির্বাচন কমিশন একজন প্রধান বিচারপতিকে এখনও কারাগারে থাকতে হচ্ছে। 

বিডিআর বিদ্রোহ -সেনা ফিসার হত্যা -শাপলা ছত্তরে গণহত্যা সব কিছুই রেকর্ড যা আর কেউ স্পর্শ করতে পারবেনা। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই আপার আমলে এত বেশি চাঁদাবাজি ছিলনা ।এত ধর্ষণ ছিলনা । এ সরকার এটা নিয়ে গর্ব করলে আমি তালিয়া বাজাবো।

একজন ওসি কি ধরনের ক্ষমতা ভোগ করেছে -কি পরিমাণ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে -তার স্যাম্পল উদারন ছিল ওসি প্রদীপ। ভাগ্যদোষে সে ফেঁসে যায নইলে কবেই সে রাষ্ট্রপতি পদক পেত।

মেজর সিনহা যদি সাধারন নাগরিক হত -প্রদীপের কখনও ফাঁসির আদেশ হতনা। এমনকি গ্রেফতারও না। বস্ততু এখনও বহু প্রদীপ  রং পাল্টিয়ে নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে। এদেরকে শাস্তি না দিলে ন্যায় বিচার যেমন প্রতিষ্ঠিত হবেনা তেমনি আগামী দিনেও বিপ্লব -হারুন-বেনজির-জিয়াউল আহসান তৈরি হবার পথ খোলা থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ