হাদিকেই কেন হত্যার টার্গেটের বিষয় করা হলো ?

 


শরিফ ওসমান হাদি কাউকে খুন করেনি, কাউকে ধর্ষণ করেনি ,কারো জমি দখল করেনি, কারো প্রতি মব সৃষ্টি করেনি , কাউকে হল থেকে বের করে দেয়নি, কাউকে আঘাত করেনি , কারো কাছ থেকে চাঁদা চায় নি-টেন্ডার-বাজি করে কারো মুখের খাবার কেড়ে নেয়নি। কিংবা  রাষ্ট্র যন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেনি,ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি -কিন্তু  অন্যায়ের বিরুদ্ধে শোষনের বিরুদ্ধে ,আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ,ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে-আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এটাই কি ছিল  হাদীর অপরাধ।নইলে তাকে জীবন দিতে হল কেন ?

হাদী কোন রাজনৈতিক নেতাও না।কারণ সে এনসিপির সদস্য নয়।  সে ডাক দিলে যে লক্ষ লোক জামায়েত হবে -তাও না। জুলাই বিপ্লবে তার মত শত শত ছাত্র জনতা আন্দোলন করেছে মাঠে নেমেছে -কিন্তু তাকে কেন টার্গেট করা হলো ? এর সহজ হলো বড়দের মুখের উপরে সঠিক কথা বলে দেয়া কিছু মানুষের মুখোশ উম্মোচন করে দেয়া  আর নীতির স্বার্থে উচিত কথা বলা।এটাই কি কাল হলো তার জন্য ?

কিছু মূর্খ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছে। প্রথমে মীর্জা আব্বাস পরে আবার জামাতের উপর দায় চাপিয়ে একটা সংঘাত বাঁধিয়ে দিতে চেয়েছে কিন্তু সেটা বুমেরাং হয়ে গেছে। কারণ হাদী জাতীয়তাবাদী আদর্শের  সমর্থন -খালেদা জিয়া -তারেক জিয়ার প্রতি ছিল তার অকৃত্রিম ভালোবাসা । 

তাই মীর্জা আব্বাস তাকে শক্র ভাবা কিংবা মারার প্লানিং করা হাস্যকর। সে কত ভোট পেত -১০ হাজার ২০ হাজার ৫০ হাজার কিংবা এক লাখ। সেটা কি মীর্জা আব্বাসের জন্য টেনশানের কোন বিষয় ছিল ? মীর্জা আব্বাস একজন জাতীয় লেবেলের নেতা -হাদীকে তার প্রতিধন্ধী মনে করার কোন কারণ নেই। এ ছাড়া জামাত -কাউকে হত্যা করে মীর্জা আব্বাসকে ফাঁসিয়ে দিবে -কিংবা মীর্জা আব্বাসকে দোষী বানিয়ে জনগণের ভোট আদায় করবে কিংবা হাদিকে মারলে আব্বাসের সিটে রাতারাতি তাদের ভোট বেড়ে যাবে  -এত অসুস্থ চিন্তা করারও কোন কারন নাই। 

তাহলে কেন হাদীকে হত্যা করা হলো -কারা হত্যা করলো তাকে ?

এর আংশিক উত্তর ইতোমধ্যে প্রকাশিত। যারা মনে করে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করতে পারলে বেশি কিছু না হলেও প্রতিশোধটা নেয়া হবে। তাই বিনিয়োগ এবং সাধারণ কর্মীদের ব্যাবহার করছে নিজেদের উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য। 

এখন কি হলো -কিলার ঘর ছাড়া বাড়ী ছাড়া দেশ ছাড়া। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ব্যাংক হিসাব জব্দ। মা বাবা -শ্বশুর শাশুড়ি , বোন,স্ত্রী-বান্ধবী এবং সহযোগীরা কারাগারে। সে কতদিন দেশের বাইরে থাকবে -আর দেশে আসলে কি হবে -তাকেও যে কেউ মারবে না -এ নিশ্চয়তা কে দিবে ?

তাই ভাবিয়া করিয়া কাজ ভাই করিয়া ভাবিওনা। কচ্ছপের মত হাজার বছর বাঁচার চেয়ে সিংহের মত কয়েক বছর বাঁচা উত্তম। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ