যেসব রাষ্টপ্রধানকে তাদের দেশ থেকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র

 


একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন হস্তক্ষেপ এ প্রথম নয়। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র একাধিক রাষ্ট্র প্রধানকে তুলে নিয়ে গেছে –কিন্তু কোন বিচার হয়নি । শুধু নিন্দা জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে –জাতিসংঘ।

তাদের সর্বশেষ শিকার হলো –ভেনুজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুবে। এর আগেও তারা যেসব রাষ্ট প্রধানকে তুলে এনেছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো :-
হিদেকি তোজো (জাপান, ১৯৪৫): যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক করা হয় তাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্যতম প্রধান নেতা এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজোকে যুদ্ধের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক পুলিশ আটক করে। পরিণতি: তোজোকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে টোকিও ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং ১৯৪৮ সালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ম্যানুয়েল নরিয়েগা (পানামা) গ্রেপ্তার: ১৯৯০ :-
১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র পানামায় হামলা চালায় এবং দেশটির সামরিক শাসক ও কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল নোরিয়েগা মাদক পাচার, দুর্নীতি ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে জড়িত। এর আগেই ১৯৮৮ সালে মিয়ামিতে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর নোরিয়েগাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। এরপর পরে ফ্রান্স হয়ে আবার পানামায় ফেরত পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম হুসেইন: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) থাকার মিথ্যা অভিযোগে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। আগ্রাসনের নয় মাস পর, ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে, মার্কিন বাহিনী সাবেক ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে তার নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্ত থেকে আটক করে। পরবর্তীতে ইরাকি আদালতে বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ (হন্ডুরাজ) : ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ক্ষমতা ছাড়ার কয়েকদিন পরই, যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট ও হন্ডুরাসের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে বিচার করা হয়। মাদক পাচার ও দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দিলে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই হন্ডুরাসের প্রধান কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরীর শিকার হন - জ্যাঁ বেরট্রঁ আরিস্তিদ (হাইতি)
গ্রেপ্তার: ২০০৪এবং রোমানিয়ান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস চসেষ্কুকে। ১৯৯০ সালে। তার বিরুদ্ধেও মাদক ও চোরা কারবারীর অভিযোগ আনা হয়।
মোদ্দকথা যারা যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরী মানতে অস্বীকার করেছে তাদের ভয়াবহ পরিনতি ভোগ করতে হয়েছে।এরমধ্যে বীন লাদেন –হোসনী মোবারক এবং গাদ্দাফী ও তার দুছেলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ